অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না-এই প্রত্যাশায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘরটি আমাদের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝামাঝিতে দাঁড়িয়ে আছে এই জাদুঘর। এখান থেকে নতুন যাত্রাপথ রচনা হবে। আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর নানা দেশে নানা জাদুঘর আছে। তারা অতীতের অনেক জিনিস সংগ্রহ করে জাতির সামনে তুলে ধরে। কিন্তু এই জাদুঘরটি একেবারেই ভিন্ন। এখানে অতীতের কোনো সংগ্রহ নেই, বরং একেবারে টাটকা নতুন যা ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলোই সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন জাদুঘর পৃথিবীতে আর আছে কিনা আমার জানা নেই।

